মঞ্চনিপুণ অভিনয়শিল্পী মোহাম্মদ জাকারিয়া
ড. অজিতকুমার ঘোষ ‘বাংলা নাট্যাভিনয়ের ইতিহাস’ গ্রন্থে বলেছেন- নাট্যকারের হাতে নাটকের একটি-মাত্র রূপ, কিন্তু প্রয়োগকর্তা ও অভিনেতার বিভিন্নতা অনুযায়ী সেই একটি-মাত্র রূপ নানা বিচিত্ররূপে দেখা যায়, নাট্যকারের সৃষ্টি নবনবতর সৃষ্টি হয়ে ওঠে মঞ্চে। অভিনেতার আকৃতি, প্রকৃতি ও প্রবণতা অনুযায়ী একই চরিত্র নতুন নতুন তাৎপর্য, সম্ভাবনা ও ভাবরসে মূর্ত হয়ে ওঠে।

মঞ্চে চলছে নাট্যাভিনয়। অন্ধকার মঞ্চে গভীর মনোযোগ দিয়ে অভিনয় দেখছেন দর্শকবৃন্দ। মাঝে মাঝেই শোনা যাচ্ছে নানারকম অনুভূতির শব্দ। কখনো মৃদু, কখনো উচ্চশব্দে। কখনো-বা উচ্চহাসি আর হাততালিতে মুখরিত হয়ে উঠছে অন্ধকার-মঞ্চ। একসময় নাটক শেষ হয়। দর্শক বেরিয়ে যান গ্যালারি থেকে, যুক্ত হন দৈনন্দিন কাজে। এক-দুইঘণ্টার অভিনয়কাণ্ডের পর নাটক কোথায় যায়?
প্রসঙ্গ বিবেচনা : পরিচয়
১
করোনার আগে থেকেই ঢাকার বাইরে, তাতে অভাববোধ তেমন ছিল না। তবে খবর তো জানতাম, চোখে পড়ে- নতুন নতুন দলের নাটক বেশ হচ্ছে, দেশি-বিদেশি সাহিত্য নিয়ে হচ্ছে, ভালোই বলছে অনেকে। তার ফলে স্বভাবের মুদ্রাদোষে এসব দেখার একটা বাসনা জন্মায়। সুযোগ ঘটায় একটি নাটক দেখার দাবি- একটানা সপ্তাহখানেক হবে। তখনই বেশ কটি নাটক পরপর দেখি। তার মধ্যে চারটি নিয়ে লিখতে ইচ্ছে করে, যারা কেবল দ্রষ্টব্য নয় দিশারিও। তাই- দ্রষ্টা নাট্য-চতুষ্টয়। এগুলোর নবভাবন ও রূপায়ণ-ভিন্নতায় লেখাও নানারকম হলো, ভেবে বুঝে আগে থেকে ঠিক করা নয়।
মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের কুশলী ও জনপ্রিয় অভিনেতা প্রয়াত নট হুমায়ূন ফরীদি।
সৈয়দ শামসুল হকের ঈর্ষা নাটকের তিনটি চরিত্র। প্রৌঢ়, যুবতী আর যুবক। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের এই নাটকটিতে মাত্র সাতটি সংলাপ। নাটকের ব্যাপ্তি ২ ঘণ্টার অধিক। মাত্র তিনজন চরিত্র বলবেন সাতটি বিশাল সংলাপ। প্রৌঢ় চরিত্রে জামালউদ্দিন হোসেন, যুবতী চরিত্রে সারা যাকের আর যুবক চরিত্রে খালেদ খান। আহা! কী অসাধারণ কেমিস্ট্রি দেখেছিলাম তিনজনের সংলাপে!
নাট্যকলা চলমান এক শিল্পমাধ্যম। দীর্ঘদিনের বাহিত জ্ঞান-অভিজ্ঞতা ও চেতনারভিত্তিতে তার গতি-প্রকৃতি আবর্তমান। হুটকরেই তার রূপ-রেখা বদলায় না। শিল্পাদর্শ ও দর্শকের রসভস্বাদনের সঙ্গে দ্বান্দ্বিক-প্রক্রিয়ায় নাট্যচর্চার রীতি-প্রকৃতি ও প্রবণতা তৈরি হয়। বাঙালির নাট্য-সংস্কৃতি হাজার বছরের নানা চড়াই-উৎরাই, আন্দোলন-প্রতিঘাত, দেশজ-বিদেশি নানা জ্ঞান-তর্কের মাধ্যমে আজকের দিনের এ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। হাজার বছরের ঐতিহ্যের ধারাবাহী নাট্যচর্চা সমকালীন বিশ্বনান্দনিকতায় বিকাশের পথ সৃষ্টি করেছে।