মঞ্চনিপুণ অভিনয়শিল্পী মোহাম্মদ জাকারিয়া

Written by অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী.

ড. অজিতকুমার ঘোষ ‘বাংলা নাট্যাভিনয়ের ইতিহাস’ গ্রন্থে বলেছেন- নাট্যকারের হাতে নাটকের একটি-মাত্র রূপ, কিন্তু প্রয়োগকর্তা ও অভিনেতার বিভিন্নতা অনুযায়ী সেই একটি-মাত্র রূপ নানা বিচিত্ররূপে দেখা যায়, নাট্যকারের সৃষ্টি নবনবতর সৃষ্টি হয়ে ওঠে মঞ্চে। অভিনেতার আকৃতি, প্রকৃতি ও প্রবণতা অনুযায়ী একই চরিত্র নতুন নতুন তাৎপর্য, সম্ভাবনা ও ভাবরসে মূর্ত হয়ে ওঠে।

নাজমা আনোয়ারের অভিনয়ে সৃজন-স্বাতন্ত্র্য : উইংসের আড়াল থেকে

Written by আব্দুল্লাহেল মাহমুদ.

মঞ্চে চলছে নাট্যাভিনয়। অন্ধকার মঞ্চে গভীর মনোযোগ দিয়ে অভিনয় দেখছেন দর্শকবৃন্দ। মাঝে মাঝেই শোনা যাচ্ছে নানারকম অনুভূতির শব্দ। কখনো মৃদু, কখনো উচ্চশব্দে। কখনো-বা উচ্চহাসি আর হাততালিতে মুখরিত হয়ে উঠছে অন্ধকার-মঞ্চ। একসময় নাটক শেষ হয়। দর্শক বেরিয়ে যান গ্যালারি থেকে, যুক্ত হন দৈনন্দিন কাজে। এক-দুইঘণ্টার অভিনয়কাণ্ডের পর নাটক কোথায় যায়?

নাজমা আনোয়ারের অভিনয়ে সৃজন-স্বাতন্ত্র্য: আরণ্যকের রাজনৈতিক-দর্শনেরই প্রতিধ্বনি

Written by ড. বাবুল বিশ্বাস.

প্রসঙ্গ বিবেচনা : পরিচয়

পারিবারিক-তথ্য

পারিবারিক নাম কাৎরাতুননেছা নাজমা হোসেন। পরিচিত নাম: নাজমা আনোয়ার। ডাক নাম: লাকী। ১৯৪১ সালে মুন্সিগঞ্জের টুঙ্গীবাড়ি থানার ধামারণ গ্রামের কাজী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পিতা কাজী আমির হোসেন ছিলেন মুন্সিগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজের আরবির শিক্ষক। মাতা শফিকুননেছা বাহরামান্দ বানু।

অভিনেতা খালেদ খান : মঞ্চের যুবরাজ

Written by শামীম সাগর.


স্বাধীনতা-উত্তরকালে বাংলাদেশের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক-অর্জনগুলোর মধ্যে একটি হলো গ্রুপ থিয়েটারের চর্চা। স্বাধীনতার আগে, বিচ্ছিন্ন এবং অনিয়মিত মঞ্চনাট্যচর্চা বিদ্যমান ছিল, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পর, বাংলাদেশের থিয়েটার নতুন উদ্দীপনার সাথে, বিশেষ-করে গ্রুপ থিয়েটারচর্চার মাধ্যমে একটি নতুন পথে যাত্রা শুরু করে। থিয়েটারচর্চার এই নতুন পথের পথপ্রদর্শক একদল সংস্কৃতিমনা মানুষ, যারা যুদ্ধ থেকে ফিরে এসেছিলেন এবং দেশের থিয়েটার-ল্যান্ডস্কেপটাকে নতুন করে সাজিয়ে তুলতে ব্রত নিয়েছিলেন।

দ্রষ্টা নাট্য-চতুষ্টয়

Written by বিপ্লব বালা.

করোনার আগে থেকেই ঢাকার বাইরে, তাতে অভাববোধ তেমন ছিল না। তবে খবর তো জানতাম, চোখে পড়ে- নতুন নতুন দলের নাটক বেশ হচ্ছে, দেশি-বিদেশি সাহিত্য নিয়ে হচ্ছে, ভালোই বলছে অনেকে। তার ফলে স্বভাবের মুদ্রাদোষে এসব দেখার একটা বাসনা জন্মায়। সুযোগ ঘটায় একটি নাটক দেখার দাবি- একটানা সপ্তাহখানেক হবে। তখনই বেশ কটি নাটক পরপর দেখি। তার মধ্যে চারটি নিয়ে লিখতে ইচ্ছে করে, যারা কেবল দ্রষ্টব্য নয় দিশারিও। তাই- দ্রষ্টা নাট্য-চতুষ্টয়। এগুলোর নবভাবন ও রূপায়ণ-ভিন্নতায় লেখাও নানারকম হলো, ভেবে বুঝে আগে থেকে ঠিক করা নয়।

হুমায়ূন ফরীদি : বাঙলামঞ্চের ক্রুশবিদ্ধ যিশু

Written by নাসির উদ্দীন ইউসুফ.

মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের কুশলী ও জনপ্রিয় অভিনেতা প্রয়াত নট হুমায়ূন ফরীদি।

যদিও তার চলচ্চিত্র-অভিনয় কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছায় নি। টেলিভিশন-অভিনয় নিশ্চিত প্রচলিত ধারা-বহির্ভূত কারণে নতুন মাত্রা যোগ করে টিভি নাটকে এবং দ্রুত কুশলী ও জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে ফরীদি দর্শক-হৃদয়ে স্থান করে নেয়। কিন্তু মঞ্চনাটকে তার সৃষ্টিশীলতা এক ধ্রুপদী অভিনেতার সাক্ষ্য বহন করে। মূলত মঞ্চে স্বল্প সময়ের অবস্থান সত্ত্বেও হুমায়ূন ফরীদির পদচ্ছাপ আমাদের মঞ্চনাট্যের ইতিহাসে অমোচনীয়। ফরীদি কীভাবে এবং কেন অন্যান্য অভিনেতা থেকে আলাদা? কী সেই জাদু যা তাকে অভিনেতা হিসেবে প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছিল?

বাংলাদেশের মঞ্চের যুবরাজ

Written by মোহাম্মদ আলী হায়দার.

সৈয়দ শামসুল হকের ঈর্ষা নাটকের তিনটি চরিত্র। প্রৌঢ়, যুবতী আর যুবক। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের এই নাটকটিতে মাত্র সাতটি সংলাপ। নাটকের ব্যাপ্তি ২ ঘণ্টার অধিক। মাত্র তিনজন চরিত্র বলবেন সাতটি বিশাল সংলাপ। প্রৌঢ় চরিত্রে জামালউদ্দিন হোসেন, যুবতী চরিত্রে সারা যাকের আর যুবক চরিত্রে খালেদ খান। আহা! কী অসাধারণ কেমিস্ট্রি দেখেছিলাম তিনজনের সংলাপে!

সমকালীন নাট্যচর্চা : রীতি ও প্রবণতা

Written by আবু সাঈদ তুলু.

নাট্যকলা চলমান এক শিল্পমাধ্যম। দীর্ঘদিনের বাহিত জ্ঞান-অভিজ্ঞতা ও চেতনারভিত্তিতে তার গতি-প্রকৃতি আবর্তমান। হুটকরেই তার রূপ-রেখা বদলায় না। শিল্পাদর্শ ও দর্শকের রসভস্বাদনের সঙ্গে দ্বান্দ্বিক-প্রক্রিয়ায় নাট্যচর্চার রীতি-প্রকৃতি ও প্রবণতা তৈরি হয়। বাঙালির নাট্য-সংস্কৃতি হাজার বছরের নানা চড়াই-উৎরাই, আন্দোলন-প্রতিঘাত, দেশজ-বিদেশি নানা জ্ঞান-তর্কের মাধ্যমে আজকের দিনের এ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। হাজার বছরের ঐতিহ্যের ধারাবাহী নাট্যচর্চা সমকালীন বিশ্বনান্দনিকতায় বিকাশের পথ সৃষ্টি করেছে।